বৈদ্যুতিক শকে মাছ শিকার বন্ধ হোক
- আপলোড সময় : ০২-১০-২০২৬ ১১:০১:০৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০২-১০-২০২৬ ১১:০১:০৬ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু একটি জলাভূমি নয়, এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যের আধার। দেশীয় মাছ, জলজ উদ্ভিদ, পরিযায়ী পাখি ও নানা প্রজাতির প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল এই হাওর। অথচ নির্বিচারে মাছ শিকার ও নিষিদ্ধ সরঞ্জামের ব্যবহার হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে ক্রমেই বিপন্ন করে তুলছে। সম্প্রতি টাঙ্গুয়ার হাওরের তেকুইনিয়ার বেরবেরিয়া বিলে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকারের সরঞ্জাম জব্দের ঘটনা সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত বৃহ¯পতিবার ভোররাতে রূপনগর আনসার ক্যাম্পের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তিনটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি, ইলেকট্রনিক নেটজালসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেন। তবে অভিযানের খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এটি নিছক একটি অভিযান বা কয়েকটি সরঞ্জাম জব্দের ঘটনা নয়; বরং হাওরের মৎস্যস¤পদ রক্ষায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জের একটি স্পষ্ট চিত্র।
বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ধ্বংসাত্মক পদ্ধতি। এভাবে মাছ ধরলে শুধু নির্দিষ্ট আকারের মাছ নয়, ছোট মাছ, পোনা এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে হাওরের সামগ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল ও জীববৈচিত্র্যের ওপর। হাওরের মৎস্যস¤পদের ওপর নির্ভরশীল জেলেদের জীবন-জীবিকাও এতে হুমকির মুখে পড়ে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র হাওরের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ সরঞ্জাম ব্যবহার করে মাছ শিকার করছে। সরঞ্জাম জব্দ হলেও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে শুধু অভিযান পরিচালনা করে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। অবৈধ মাছ শিকারের পেছনে থাকা চক্র, তাদের সহযোগী এবং সরঞ্জাম সরবরাহকারীদেরও চিহ্নিত করতে হবে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি না করে যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ, জেলে সম্প্রদায় ও পরিবেশবাদীদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নিয়মিত নজরদারি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ অভিযান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে স্থানীয়দের স¤পৃক্ত করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
টাঙ্গুয়ার হাওর জাতীয় প্রাকৃতিক ঐতিহ্য, যার সুরক্ষার দায়িত্ব সবার। আজ অবৈধ মাছ শিকারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই হাওরের সমৃদ্ধ মৎস্যস¤পদ ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই টাঙ্গুয়ার হাওরে বৈদ্যুতিক শকে মাছ শিকার বন্ধে কঠোর নজরদারি ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়